বাইডেনের জয়ে বিএনপিতে চাপা উল্লাস

মার্কিন নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল এখনো ঘোষণা করা হয়নি। এখন পর্যন্ত যে ফলাফল তাতে জো বাইডেন এগিয়ে আছেন। নাটকীয় কোন কিছু না ঘটলে জো বাইডেন যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হতে যাচ্ছে তা মোটামুটি নিশ্চিত।

জো বাইডেন সে রকম প্রস্তুতিও নিয়েছেন এবং সরকার গঠনের জন্য প্রাথমিক কাজ শুরু করেছেন। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন প্রেসিডেন্টের নাম এখনো ঘোষণা করা হয়নি। অনেকেই মনে করছেন যে, প্রেসিডেন্ট পদে নতুন নাম ঘোষনা করতে একটি আইনি লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে হবে।

যাই হোক না কেন বাইডেন যে এখন পর্যন্ত এগিয়ে আছেন এবং তিনি যে ভবিষ্যতে মার্কিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হতে যাচ্ছেন সেটা নিয়ে অনেকেরই কোনো সন্দেহ নেই। যেমন নেই বিএনপি নেতাদের মধ্যে।

আজ সকাল থেকে বাইডেন এগিয়ে যাওয়ার পরপরই বিএনপি নেতাদের মধ্যে চাপা উল্লাস আর চাপা থাকেনি। বিএনপি নেতারা একে অন্যকে এসএমএস করে টেলিফোনে উল্লাস প্রকাশ করেছেন। গত নির্বাচনে তারা আশায় বুক বেঁধেছিলেন যে হিলারি ক্লিনটন জিতবে। হিলারি ক্লিংটন জিতলেই সরকার চাপে পড়বে। এবারও তারা মনে করছেন যে জো বাইডেন যদি প্রেসিডেন্ট হন তাহলে আওয়ামী লীগ সরকার চাপে পড়বে। কারণ ডেমোক্রেটিক পররাষ্ট্রনীতি কৌশলপত্রের দক্ষিণ এশিয়াকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়। বাংলাদেশ-ভারত নিয়ে তারা অনেক বেশি মাথা ঘামায়। যেটা রিপাবলিকানরা ঘামায় না।

গত চার বছরে ট্রাম্পের শাসনে বাংলাদেশে মার্কিন কূটনীতিকদের প্রায় অনুচ্চারিত এবং গুরুত্বহীন একটি অধ্যায় ছিল। কিন্তু যদি হিলারি ক্লিনটন বিজয় হতেন তাহলে হয়তো বাংলাদেশের অনেক ছোটখাটো ব্যাপারেও তিনি হস্তক্ষেপ করতে চাইতেন। এ কারণেই বিএনপি নেতারা মনে করছেন যে জো বাইডেন বিজয়ী হওয়ার পর সরকার একটু ভালো মতই চাপে পড়বে।

অবশ্য বিএনপির জন্য এ ধরনের উল্লাস প্রকাশ নতুন। ২০১৪ সালের ২৬ মে নরেন্দ্র মোদী বিজেপি কংগ্রেসকে হারিয়ে ক্ষমতায় আসে। নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে। নরেন্দ্র মোদির বিজয়ের পর বিএনপি নেতৃবৃন্দ দলীয় কার্যালয়ে মিষ্টি বিতরণ করেছিলেন। কারণ ঐতিহাসিকভাবেই আওয়ামী লীগের সঙ্গে কংগ্রেসের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। কংগ্রেস ২০১৪ জানুয়ারি নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে প্রকাশ্য সমর্থন দিয়েছিল। বিএনপির অংশগ্রহণ ছাড়া ওই নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল কংগ্রেস।

সে কারণেই বিএনপি মনে করেছিল যে, নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলে সেই সম্পর্ক আর থাকবে না। সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি টানাপোড়েন সৃষ্টি হবে এবং বিজেপি একটি কট্টরে মৌলবাদী একটি দল। তারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে সখ্যতা করবে না। কিন্তু ফল হয় উল্টো, নরেন্দ্রমোদি সরকার আরো বেশি আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করল। নরেন্দ্র মোদি শেখ হাসিনা প্রতি মুগ্ধতার কথা ঘোষণা করল।

আর এবারও সেই একই ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কারণ জো বাইডেনের সামনে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু আছে । মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেই দিন নেই যে, নিজের চরকায় তেল না কেটে নিজের দেশে দিকে না তাকিয়ে বাইরের দেশের দিকে তাদের দৃষ্টি নিবন্ধন করতে হবে। জো বাইডেন যদি শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন তাহলে তাকে দেশের ভিতরে অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। করোনা মোকাবেলা করা, বিভক্ত মার্কিন ঐক্যবদ্ধ করা ছাড়াও অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার মতো চ্যালেঞ্জগুলো তাকে মোকাবেলা করতে হবে।

সেখানে বাংলাদেশ নিয়ে নাক গলানোর মত সময় তিনি আদৌ পাবেন কিনা সে নিয়ে প্রশ্ন আছে। কিন্তু প্রশ্ন অন্যত্র, বিএনপি সব সময় অন্যে ইস্যুর উপর ভর করেই আওয়ামী লীগের ক্ষতি করতে চায়। তা দেশে হোক বা বিদেশে হোক। ২০০৯ সাল থেকে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে এবং বিভিন্ন সময় দেখা যাচ্ছে যে, রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির যেটা করা দরকার জনগণকে সংগঠিত করা, জনগণকে তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি সম্পর্কে অবহিত করা। তা নিয়ে নির্বাচনের বৈতরণী পার হওয়া সেটি না করে বিএনপি নানারকম ইস্যুভিত্তিক আন্দোলনে সরকারকে বিপদে ফেলার কৌশলে বেশি আগ্রহী।

বিডিআর বিদ্রোহ থেকে শুরু হয়েছে, কখনও কোটা আন্দোলন, কখনো নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, কখনো ধর্ষণ আন্দোলনে বিএনপি সরকারকে কাদায় ফেলার উপায় খুঁজেছে। যখন তারা সফল হয়নি তখন তারা বিদেশিদের কাছে ধরনা দিয়েছে দেন-দরবার করেছে। আর তাই জো বাইডেনের জয়ে তাদের উল্লাসের কারন একটি, তাহলো একটি ক্ষীণ আশা,জো বাইডেন যদি বাংলাদেশ সরকারকে চাপে ফেলে। কিন্তু বিএনপি নেতারা মাঝে মাঝে ভুলে যান যে বাংলাদেশ এখন বিদেশী সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল নয়। এমনকি মার্কিন সাহায্যের উপরতো নযই। তাই চাপে ফেলতে চাইলেও কি জো বাইডেন বাংলাদেশকে চাপে ফেলতে পারবেন? সুত্র: বাংলা ইনসাইডার

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*