পরাজয় শুনে যা করলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন ডেমোক্রেটিক প্রার্থী জো বাইডেন। তিনি ২৭৩টি ইলেকটোরাল ভোট পেয়েছেন, অর্থাৎ তিনি জানুয়ারি মাসে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন, যদিও তা নির্ভর করবে আইনগত চ্যালেঞ্জের ফলাফলের ওপর।

ভোটের ফলাফলের হিসাবে পেনসিলভেনিয়ায় জো বাইডেনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। পেনসিলভেনিয়ায় জেতার মাধ্যমে বাইডেন সেখানকার ২০টি ইলেকটোরাল ভোট পেয়ে গেলেন।

এখনো নর্থ ক্যারোলিনা, জর্জিয়া, অ্যারিজোনা, নেভাদা ও আলাস্কা- এই পাঁচটি রাজ্যের ফল ঘোষণা বাকি রয়েছে। এর মধ্যে জর্জিয়ার ভোট পুনঃগণনা হচ্ছে।

ট্রাম্প কি করছেন এখন?

জানা যাচ্ছে, ট্রাম্পের মেজাজমর্জি ভালো নেই। তিনি হোয়াইট হাউজে তার বাসভবন এবং ওভাল অফিসে সময় কাটাচ্ছেন, টিভি দেখছেন, নানাজনকে ফোন করছেন।

তার সমর্থকরা সেভাবে রাস্তায় নামছে না দেখে তিনি ক্ষুব্ধ। হোয়াইট হাউস অনেকটা ফাঁকা, অনেকে কাজে আসেনি।

প্রেসিডেন্ট তার শীর্ষ উপদেষ্টাদের বলছেন যে তিনি আইনি চ্যালেঞ্জের প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেবেন।

কিন্তু মার্কিন সংবাদ মাধ্যমগুলোর খবর, ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি পরাজয় স্বীকার করবেন না, এবং ”ভোটযুদ্ধের অনেক কিছুই এখনো বাকি আছে”। প্রশ্ন হলো, ট্রাম্প পরাজয় স্বীকার না করলে কী ঘটতে পারে?

‘এতে কিছুই এসে যায় না’

যুক্তরাষ্ট্রের আইন সম্পর্কে যারা জানেন সেই বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট যদি নির্বাচনে পরাজিত হন এবং সেই ফলাফল নির্বাচনী কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে, তাহলে তিনি পরাজয় স্বীকার করলেন কি করলেন না – তাতে কিছু এসে যায় না।

নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী পরাজয় স্বীকার করেন জয়ী প্রার্থীকে একটা ফোন করে এবং সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বক্তৃতার মাধ্যমে। নিকট অতীতে হিলারি ক্লিনটন, জন ম্যাককেইন, এ্যাল গোর, জর্জ এইচ বুশ – সবাই তাই করেছেন।

অবশ্য হিলারি ক্লিনটন নির্বাচনে ট্রাম্পের কাছে হারার পর তখনকার ভাইস প্রেসিডেন্টকে প্রথম দিকে পরামর্শ দিয়েছিলেন ফলাফল খুব অল্প ব্যবধানের হলে পরাজয় স্বীকার না করে ঘটনা কোন দিকে যায় তা দেখতে।

তবে এই পরাজয় স্বীকার করা একটা আনুষ্ঠানিকতা বা রাজনৈতিক সৌজন্য মাত্র – এর কোন আইনি বাধ্যবাধকতা নেই।

২০ জানুয়ারির পর কী হতে পারে

ইলিনয় স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতির অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ বলছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ক্ষমতার মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২০২১ সালের ২০ জানুয়ারি দুপুর ১২টায়।

“এর পর তিনি আর প্রেসিডেন্ট থাকবেন না, যদি না তিনি দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য নির্বাচনে জয়লাভ করেন।”

তিনি বলছেন, আগামী ২০ জানুয়ারি ট্রাম্পের বর্তমান ক্ষমতার মেয়াদ শেষ হবে এবং সেসময়ই ২০২০-এর নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থী শপথ নেবেন এবং শপথ নেবার সাথে সাথে তিনিই প্রেসিডেন্ট হবেন।

এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান সাধারণতঃ কংগ্রেস ভবনের সামনে হয়ে থাকে, কিন্তু আইনগতভাবে এরও কোন বাধ্যবাধকতা নেই।

অধ্যাপক ড. রীয়াজ বলছেন, আইন অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে যে কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে নতুন প্রেসিডেন্ট প্রধান বিচারপতির কাছে শপথ নিতে পারেন।

পরাজিত প্রার্থী নতুন প্রেসিডেন্টের শপথ অনুষ্ঠানেও উপস্থিত থাকেন, যেমনটা ট্রাম্পের শপথের দিন ছিলেন হিলারি ক্লিনটন। তবে জো বাইডেন যদি জিতে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হন, তাহলে ট্রাম্প জো বাইডেনের শপথে উপস্থিত থাকবেন কিনা তা এখনো স্পষ্ট নয় ।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*