গোল্ডেন মনিরের স্বর্ণ সম্পদের পাহাড়

র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার গোল্ডেন মনিরের রয়েছে স্বর্ণ ও সম্পদের পাহাড়। কয়েকমাস আগে গোয়েন্দা সংস্থা তথ্য পায়, মনির ওরফে গোল্ডেন মনিরের কাছে অবৈধ অস্ত্র এবং মাদক রয়েছে। যা তদন্ত করেতে গিয়ে তার নানান অপকর্মের তথ্য বেরিয়ে আসে।

শনিবার সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব জানায়, গোল্ডেন মনিরের বাসায় অভিযান চালিয়ে ১ টি বিদেশি পিস্তল, কয়েক রাউন্ড গুলি, বিদেশি মদ, ৬০০ ভরি (৮ কেজি) স্বর্ণ, ১০টি দেশের মুদ্রা (টাকা হিসেবে ৯ লাখ) এবং নগদ ১ কোটি ৯ লাখ টাকা জব্দ করা হয়েছে।

মনির মূলত হুন্ডি ব্যবসায়ী, স্বর্ণ চোরাকারবারি এবং ভূমির দালাল। তার ১টি অটোকার সিলেকশন রয়েছে। গাড়ির ১ টি শো রুম রয়েছে। এর পাশাপাশি রাজধানীর গাউসিয়া মার্কেটে ১ টি স্বর্ণের দোকান সম্পৃক্ততা রয়েছে তার। তার বাসা থেকে অনুমোদনবিহীন ২ টি বিলাসবহুল গাড়ি জব্দ করেছে র‌্যাব, যার একেকটির মূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা। এছাড়াও তার কার সিলেকশন থেকে আরো ৩ টি বিলাসবহুল ৩ টি গাড়ি জব্দ করা হয়েছে।

র‌্যাব বলছে, গ্রেপ্তারকৃত মনির ৯০ দশকে গাউসিয়া মার্কেটে একটি দোকানের কাপড়ের সেলস্ ম্যান ছিলো। পরবর্তীতে ক্রোকারিজের ব্যবসা, এরপর ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে লাগেজ ব্যবসা এবং সর্বশেষ স্বর্ণ চোরাকারবারি চক্রের জড়িয়ে যাওয়া। বিপুল পরিমান স্বর্ণ অবৈধভাবে সে দেশে নিয়ে এসেছে। ঢাকা, সিঙ্গাপুর এবং ভারত ছিলো তার স্বর্ণ চোরাচালানের রুট।

অভিযান সম্পর্কে আশিক বিল্লাহ বলেন, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-৩ এর একটি দল শুক্রবার দিবাগত রাত ১১টায় মেরুল বাড্ডা ডিআইটি প্রজেক্ট এলাকায় অবস্থান নেয়। অভিযানের মূল কারণ ছিল অবৈধ অস্ত্র ও মাদক। মনির হোসেন ওরফে গোল্ডেন মনিরকে গ্রেফতারের পর তার হেফাজত থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, কয়েক রাউন্ড গুলি, বিদেশি মদ এবং প্রায় ৯ লাখ টাকার বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া যায়।

গোল্ডেন মনিরের আরেকটি পরিচয় তিনি ভূমিদস্যু। রাজউকের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে বিপুল পরিমাণ অর্থ-সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি। ঢাকা শহরে ডিআইটি প্রজেক্টের পাশাপাশি বাড্ডা, নিকুঞ্জ, উত্তরা ও কেরানীগঞ্জ এলাকায় তার দুই শতাধিক প্লট আছে। ইতোমধ্যে তিনি তার ৩০টি প্লটের কথা র‌্যাবের কাছে স্বীকার করেছেন।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*