ছয়টি দেশে ৬৬ আমলার ঘরবাড়ি


কেঁচো খুঁড়তে রীতিমত সাপ বের হচ্ছে। সরকার দুর্নীতি বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে বিদেশে যারা অর্থ পাচার করেছেন এবং যাদের বিদেশে সম্পদ রয়েছে তাদের একটি তালিকা তৈরি করার উদ্যোগ নেয়। দুর্নীতি দমন কমিশন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে বিদেশে অর্থ পাচারকারীদের তালিকা তৈরি করার জন্য অনুরোধ জানায়।

সে অনুরোধের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে, যে সমস্ত বাংলাদেশের নাগরিকরা অবৈধ পন্থায় সম্পদ করেছে তাদের তালিকা প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়। এই তালিকার একটি খসড়া ইতোমধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা হয়েছে। এই তালিকাটিতে যে সমস্ত তথ্য আছে তা রীতিমত বিস্ময়কর বলে জানিয়েছেন সরকারের একাধিক দায়িত্বশীল ব্যাক্তি।

এতদিন মনে করা হত যে, রাজনীতিবিদ এবং ব্যবসায়ীরাই বোধহয় বিদেশে সম্পদ পাচার করেন এবং সেখানে তারা ঘরবাড়িসহ বিভিন্ন রকম ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িয়ে যান। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে যে তথ্যগুলো পাওয়া যাচ্ছে তাতে দেখা যাচ্ছে রাজনীতিবিদ এবং ব্যবসায়ীদের সংখ্যা খুবই কম। সিংহভাগ আমলাই বিদেশে সম্পদ গড়েছেন।

খসড়া যে তালিকাটি তাতে দেখা যাচ্ছে যে বিশ্বের ছয়টি দেশে ৬৬ জন আমলার বিভিন্ন রকমের সম্পদ রয়েছে। যে দেশগুলোতে আমলাদের সম্পদ রয়েছে তার মধ্যে রয়েছে কানাডা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য এবং মালয়েশিয়া। তবে এর মধ্যে সিংহভাগ আমলাই কানাডায় বাড়িঘর করেছেন এবং তাদের পরিবার-পরিজন সেখানে থাকেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে ১৭ জন আমলা আছেন যারা কানাডায় বিভিন্ন স্থানে ফ্ল্যাট-বাড়ি করেছেন। সেখানে তাদের পরিবার-পরিজন এবং ছেলে মেয়ে থাকেন। তারা বিভিন্ন পন্থায় সেখানে নাগরিকত্ব নিয়েছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও এর সংখ্যা নেহাত কম নয়। ১১ জন আমালার পরিচয় পাওয়া গেছে যারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন জায়গায় সম্পদ গড়েছেন। তাদের পরিবার পরিজন সেখানেই অবস্থান করেন। আর তারা বাংলাদেশে এক ধরণের ব্যাচেলর জীবনযাপন করেন।

সিঙ্গাপুরে পাওয়া গেছে ৬ জন আমলার সম্পদের হিসেব। সেখানে তারা কেও বসবাস না করলেও তাদের স্থাবর সম্পত্তি যে সেখানে রয়েছে সে ব্যাপারে পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় নিশ্চিত তথ্য পেয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে সম্পদ আছে এমন আমালার সংখ্যা পাঁচ জন। এদের মধ্যে দুইজন সংযুক্ত আরব আমিরাতেই থাকেন বাকিদের শুধুমাত্র সম্পদ রয়েছে। যুক্তরাজ্যেও চারজন সাবেক আমলার সম্পদের হিসেব পাওয়া গেছে। মালেশিয়াতে সেকেন্ড হোম করা আমলার সংখ্যাও কম নয়।

সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে যে, এটা তো হল শুধু মাত্র স্ব-নামে যে স্বম্পদ। এই ছয়টি দেশে যে সমস্ত আমলাদের তথ্য পাওয়া গেছে। তারা নিজেদের নামেই ওই সম্পদগুলো করেছেন। কিন্তু অনেক আমলাই বেনামে সম্পদ করেছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। সে সম্পর্কে আসলে সু-নির্দিষ্ট করে কোনো তথ্য পাওয়ার উপায় নেই বলে মনে করছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মর্তারা। কারণ বে-নামে সম্পদ কখনোই প্রমাণ করা যায় না।

বাংলাদেশে অনেক ব্যবসায়ী বিজনেস ক্যটাগরিতে অভিবাসী হয়েছেন এবং সেখানে তারা কিছুদিন থেকে আবার দেশে এসে ব্যবসা করছেন। সেখানে তাদের ঘরবাড়িও আছে। কিন্তু তাদের একটি বৈধ আয়ের উৎস আছে। তবে মজার ব্যপার হল যে, এ সমস্ত দেশগুলোতে রাজনীতিবিদদের সংখ্যা খুবই কম। হাতেগোনা কয়েজন ছাড়া তেমন কোন রাজনীতিবিদই বিদেশে তেমন কোন সম্পদ গড়তে পারেননি।

এখন প্রশ্ন দাঁড়াচ্ছে যে, সমস্ত আমলারা বিদেশে সম্পদ গড়েছেন এবং তাদের সন্তান-সন্তানাদি সেখানে বসবাস করছেন- তাদের ব্যাপারে কি করা হবে? এ ব্যাপারে দুর্নীতি দমন কমিশনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন যে তারা এ ব্যাপারে তালিকাটি এখনো হাতে পাননি। তালিকাটি হাতে পাওয়ার পর এটি তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন। তারপর তারা চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।

এদিকে বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ আগামী ১৭ ডিসেম্বরের মধ্যে এই তালিকা চেয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র বলছে যে, এটি যেহেতু খসড়া তালিকা। এই খসড়া তালিকাটি তার পরিমার্জন এবং পরিবর্ধন করে চূড়ান্ত আকারে ১৭ ডিসেম্বরের মধ্যে হাইকোর্টে জমা দিবেন। সুত্র: বাংলা ইনসাইডার


Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*