দেহ ব্যবসায় বাধ্য হচ্ছে বাংলাদেশের হিজড়ারা


সরকারিভাবে তাদের পরিচয় তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে। বাংলাদেশের একটি নির্বাসিত সম্প্রদায়ের এই সদস্যরা হিজড়া নামেও পরিচিত।

তৃতীয় লিঙ্গের সদস্যরা পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন। সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির কারণেই এটি করা হয়। ডেনমার্কের আলোকচিত্রী জ্যান মোয়েলার হ্যানসেন বাংলাদেশের ব্যস্ত নগরী ঢাকা সফর করেছেন ২০১০ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত। বাংলাদেশের সমাজে হিজড়াদের জীবন-যাপন ও তাদের সম্পর্কে জানতেই এ সফর করেন হ্যানসেন।

তিনি বলেন, কয়েক বছর ঢাকায় বসবাসের পর আমার মনে হয়েছে, হিজড়ারা সবচেয়ে বেশি খোলামেলা, গর্বিত, আত্মসচেতন ও মর্যাদাবান মানুষ। বাংলাদেশে পাঁচ বছরের সফরে আমি তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি।

‘ভিন্ন ধরনের যৌনতা, চেহারা ও আচরণ এবং সমাজের চোখে তাদের মূল্যায়নের কারণে তারা নিজস্ব পারিবারিক কাঠামো ও বন্ধন তৈরি করেছে। আমি হিজড়া পরিবারে যে বন্ধন এবং সম্পর্ক দেখেছি তা সমাজে তাদের টিকে থাকা ও অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য অত্যন্ত শক্তিশালী এবং প্রয়োজনীয়।’

যৌনকর্মী হিসেবে কাজ করা এই হিজড়াদের অধিকাংশের জন্ম হয় পুরুষ হিসেবে। কিন্তু তারা নিজেদের নারী অথবা পুরুষ হিসেবে মনে করে না। হ্যানসেন বলেন, একজন প্রকৃত হিজড়া হওয়া বলতে প্রায়ই বোঝানো হয় যে লিঙ্গ এবং অণ্ডকোষ অপসারণের মাধ্যমে পুরুষত্বহীন হয়েছে।

সমাজ থেকে তাদের পৃথক করার কারণে হিজড়ারা অত্যন্ত ছোট এবং শক্তিশালী গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হিজড়ারা তাদের সমান অধিকারের জন্য লড়াই করছে।

আলোকচিত্রী জ্যান মোয়েলার হ্যানসেন বলেন, হিজড়ারা তাদের অধিকারের জন্য লড়ছে এবং তারা চায় সমাজের অন্য মানুষের মতো তাদের প্রতি আচরণ করা হোক। তারা অন্যদের জানাতে চায় যে, তারাও স্বাভাবিক মানুষ।

তারা অন্যদের মতো স্বাভাবিক জীবন-যাপন করার অনুমতি চায়। বাংলাদেশের হিজড়ারা বলছেন, অন্যরা তাদের (হিজড়া) জীবন, লিঙ্গ এবং যৌনতাকে বুঝতে পায় না। তারা চায় সমাজ এবং সরকার সমাজের অন্য মানুষের মতো তাদের সমানাধিকারের স্বীকৃতি দেবে।

সূত্র : ডেইলি মেইল।


Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*