মামুনুল হককে বাধা দিতে পারবে না ছাত্রলীগ, কেন্দ্র থেকে এলো নির্দেশ


বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে বিতর্কের জের ধরে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে চট্টগ্রামে ঢুকতে না দেওয়ার ঘোষণা দিলেও শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রের নির্দেশে সেই অবস্থান থেকে সরে আসতে হচ্ছে চট্টগ্রামের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের। দুপুরে নেওয়া অবস্থান থেকে রাতেই পিছু হটতে হল সরকারি দলের এই ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনকে।

বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বরে আয়োজিত এক সমাবেশ থেকে সাম্প্রতিক সময়ে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভেঙে ফেলার হুমকি দিয়ে মামুনুল হককে যে কোনো মূল্যে চট্টগ্রামে ঢুকতে বাধা দেওয়া হবে— এমন ঘোষণা দিয়েছিল ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

তবে এদিন রাত পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ছাত্রলীগ ছাড়াও যুবলীগের পক্ষ থেকে মামুনুল হককে প্রতিরোধ করার জন্য বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান গ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। তবে যুবলীগের কার্যক্রম স্থগিত হচ্ছে কিনা এই বিষয়ে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) চট্টগ্রামের হাটহাজারী পার্বতী হাই স্কুল মাঠে একটি তাফসিরুল কোরান মাহফিলে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে মামুনুল হকের। আকাশপথে চট্টগ্রাম এসে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গাড়িতে করে হাটহাজারী যাবেন— এমনটিও জানা গেছে বিভিন্ন সূত্রে।

যে কোনো মূল্যে মামুনুল হকের এই মাহফিল ঠেকানোর ঘোষণা দিয়ে এই লক্ষ্যে শুক্রবার চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নেওয়ার পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি ছিল চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের।

তবে বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) রাত ১১টার দিকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের শীর্ষ পর্যায় থেকে মহানগর ও জেলা ইউনিটের নেতাদের সব কর্মসূচি স্থগিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের যাত্রাপথে কোনোরকম বিঘ্ন না ঘটানোর নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে কড়াভাবে।

সূত্র বলছে, সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশই পালন করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতারা। সন্ধ্যায় নেতাদের ডেকে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক ও মাহফিল ঠেকানোর যে কোনো চেষ্টা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগের একজন শীর্ষ নেতা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ওই নেতা বলেন, ‘আমরা তিনটি ইউনিট থেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও পয়েন্টে অবস্থান নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের সংগঠনের শীর্ষ পর্যায় থেকে সব রকমের কর্মসূচি স্থগিত করতে বলা হয়েছে। আপাতত আমরা সেটাই করবো।’

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৬ নভেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব চত্বরে আয়োজিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভেঙে ফেলা হুমকিদাতা ‘উগ্র জঙ্গী’ মামুনুল হকের চট্টগ্রাম আগমনের প্রতিবাদে এবং তা প্রতিহত করার লক্ষ্যে এক সমাবেশে ঘোষণা দেওয়া হয়, মামুনুল হক চট্টগ্রামের মাটি ব্যবহার করে কোথাও যেতে চাইলে তা যেকোন মূল্যে প্রতিহত করা হবে। ওই সমাবেশ থেকে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করা এবং ভাস্কর্য ভেঙ্গে ফেলার হুমকি দেওয়া হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে চট্টগ্রামে সর্বাত্মক প্রতিরোধের ঘোষণা দেওয়া হয়।

ভাস্কর্য অপসারণ বিতর্কে চট্টগ্রামের প্রয়াত মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সন্তান শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের সঙ্গে দ্বৈরথে জড়ানোর পর চট্টগ্রামের ভূমি ব্যবহার করে মামুনুল হকের হাটহাজারী সংবর্ধনা নিতে যাওয়াকে নিজেদের প্রেস্টিজ ইস্যু হিসেবে নেয় মহিউদ্দিন অনুসারীরা। তাই মামুনুল হককে প্রতিরোধ করতে চট্টগ্রামের সবর্স্তরের ছাত্র ও যুব ঐক্য পরিষদের ব্যানারে প্রেসক্লাব চত্বরে ওই সমাবেশের ডাক দেয় চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ।

চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহম্মেদ ইমু সভাপতিত্ব ও সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীরের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে নগর ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান নেতারা ছাড়াও চট্টগ্রাম উত্তর ও দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।


Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*