চলতি বছরেই সংসার ভাঙলো একাধিক তারকার


শোবিজ দুনিয়ার জন্য চলতি বছরটা খুব ভালো কাটেনি। বছরের শুরুতে মাস দুয়েক ঠিকঠাক থাকলেও করোনার ধাক্কায় লণ্ডভন্ড হয়ে যায় সবকিছু। তারকাদের রিল লাইফ থেকে রিয়েল লাইফ- সব জায়গায় করোনার প্রভাব ব্যাপকভাবে লক্ষ্য করা গেছে।

এই মহামারির সময়েও ব্যক্তিগত জীবন উল্টেপাল্টে গেছে অনেক তারকাদের। বিচ্ছেদের পথে হেঁটেছেন অনেকে, আবার কেউ কেউ বছর ‍জুড়েই আলোচনায় ছিলেন বিচ্ছেদের গুঞ্জনে।

শাবনূর-অনিক : বছরের শুরুতেই স্বামী অনিক মাহমুদকে তালাক দেন জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা শাবনূর। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, ‘বনিবনা হচ্ছে না।’ ২০২০ সালের ২৬ ‍জানুয়ারি সম্পর্ক চ্ছেদ করেন শাবনূর। তালাকের নোটিশ স্বামীর ঠিকানায় পাঠান ৪ ফেব্রুয়ারি। চলতি বছর মার্চে বিষয়টি নিয়ে বেশ আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে। অনিক মাহমুদের সঙ্গে শাবনূর আংটি বদল করেন ২০১১ সালের ৬ ডিসেম্বর। ২০১২ সালের ২৮ ডিসেম্বর বিয়ের পিঁড়িতে বসেছিলেন তারা। ঠিক এক বছর পর তাদের প্রথম পুত্র সন্তান জন্ম নেয়।

অপূর্ব-নাজিয়া : বিয়ের ৯ বছরের মাথায় বিচ্ছেদ ঘটে ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব ও নাজিয়া হাসান অদিতির। নিজের ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে বিচ্ছেদের খবর জানান দিয়েছিলেন অদিতি। ২০২০ সালের ১৭ মে সংসার ভাঙার খবরটি গণমাধ্যম স্বীকারও করেছিলেন তিনি। তবে ঠিক কী কারণে বিচ্ছেদ হয়েছে সে বিষয়ে অপূর্ব ও অদিতি কেউ মুখ খুলেননি। ২০১১ সালের ২১ ডিসেম্বর নাজিয়া হাসান অদিতিকে বিয়ে করেছিলেন অপূর্ব। জায়ান ফারুক আয়াশ নামে এক পুত্র সন্তানও রয়েছে এ দম্পতির। এর আগে, ২০১০ সালের ১৮ আগস্ট ভালোবেসে অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভাকে বিয়ে করেছিলেন অপূর্ব। তার সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটে ২০১১ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি।

পরীমনি-রনি : চলতি বছর ১০ মার্চ হুট করেই রাজধানীর একটি কাজী অফিসে বিয়ে করেছিলেন জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পরীমনি। নাট্য নির্মাতা কামরুজ্জামান রনিকে মাত্র ৩ টাকা দেনমোহরে বিয়ে করেন এ নায়িকা। সিনেমায় কাজ করতে গিয়ে রনির সঙ্গে পরিচয়, তার বন্ধুত্ব। বন্ধুত্ব থেকে হুট করেই বিয়ে করে ফেলেন পরীমনি। কিন্তু কী থেকে কী হলো- মাত্র পাঁচ মাসেই সংসার ভেঙে গেল। যদিও এ নিয়ে সরাসরি কিছু বলেননি কামরুজ্জামান রনি। এর আগে, বিনোদন সাংবাদিক তামিম হাসানের সঙ্গে ২০১৯ সালের ১৪ এপ্রিল বাগদান সম্পন্ন হয়েছিল পরীর। কথা ছিল যেকোনো ১৪ এপ্রিল বিয়ে করবেন তারা। কিন্তু তার আগেই এলোমেলো হয়ে গেছে দুজনের পথ। বিয়ের জন্য প্রস্তুত না- জানিয়ে বাগদান ভেঙে দেন পরীমনি।

মুনমুন-মোশাররফ : সিনেমা না ছাড়ায় স্বামীকে ছেড়ে দিয়েছেন বাংলা সিনেমার এক সময়ের জনপ্রিয় নায়িকা মুনমুন। চলতি বছর সেপ্টেম্বর মাসে তার বিচ্ছেদের খবরটি প্রকাশ্যে আসে। লকডাউনে থাকায় অনেকের মতো মুনমুনের টাকাও ফুরিয়ে যায়। দুই সন্তান ও স্বামীকে নিয়ে সংসার তাকেই চালাতে হচ্ছিল। সিনেমার লগ্নি না করে অন্য ব্যবসা শুরু তাগিদ দিচ্ছিলেন স্বামী মীর মোশাররফ হোসেনকে। কিন্তু তিনি শোনেননি। একপর্যায়ে মুনমুনের মনে হলো, ‘আর পারলাম না।’ ব্যস, বিচ্ছেদের চিঠি পাঠিয়ে দিলেন স্বামীর ঠিকানায়। মুনমুনের স্বামী মীর মোশাররফ পেশায় মডেল, অভিনেতা ও প্রযোজক। ২০০৯ সালে বিয়ে হয় তাদের। সালমান ও যশ নামে দুই সন্তান রয়েছে এ দম্পতির। এর আগে, ২০০৩ সালে সিলেটের এক ব্যবসায়ীকে বিয়ে করেন মুনমন। তিন বছর পর বিচ্ছেদ হয় তাদের।

ফারিয়া-অপু : ফেসবুকের মাধ্যমে ২০১৫ সালের হারুন অর রশীদ অপুর সঙ্গে পরিচয় ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী শবনম ফারিয়ার। তিন বছর প্রেম করে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে আংটি বদল করেন তারা। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে জমকালো আয়োজনে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সারেন এ অভিনেত্রী। সংসার ভালোই যাচ্ছিল। কিন্তু, কিছুদিন ধরে গুঞ্জন উঠেছিল- আলাদা থাকছেন ফারিয়া-অপু। অবশেষে সে গুঞ্জনই সত্যি হলো। শুক্রবার (২৭ নভেম্বর) বিচ্ছেদ পত্রে সই করেন অপু-ফারিয়া। ২৮ নভেম্বর ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফারিয়া। তারপর থেকে দিনভর আলোচনায় শবনম ফারিয়া।


Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*