রহস্যময় গর্ত, মৃত পশুকে ফেললেও হয়ে যায় জীবিত!


মেল’স হোল নামক একটি গর্ত, যার কোনো শেষ নেই! এতে কোনো কিছু ফেললেও শব্দ হয় না। এমনকি গর্তের মুখে দাঁড়িয়ে জোরে শব্দ করলেও তা প্রতিফলিত হয় না।

আজ সেই রহস্যময় গর্ত সম্পর্কে জানাব। ওয়াশিংটনের এলনসবার্গে এই গর্তটির অবস্থান। এটি তলাবিহীন গর্ত নামেও পরিচিত।অনেক বছর আগে কোস্ট টু কোস্ট নামে একটি এফএম রেডিও চ্যানেল ছিল।

যে চ্যানেলে কোনো গান-বাজনা বা আজগুবি কোনো গল্প ব্রডকাস্ট করা হত না। এই চ্যানেলে ব্রডকাস্ট করা হতো কেবলমাত্র ইন্টেলিজেন্স, মিস্টেরিয়াস এবং প্যারানরমাল সব গল্প।

এই চ্যানেলে অনেক রহস্যপূর্ণ গল্প শোনানো হয়েছে। যা সেই সময় ছিল তুমুল জনপ্রিয়। এ রেডিও চ্যানেলে যেসব রহস্যপূর্ণ গল্প এ পর্যন্ত ব্রডকাস্ট করা হয়েছে, তার মধ্যে একটি রহস্যপূর্ণ গল্প রয়েছে। যা সবাইকে অবাক করে দেয়।

প্রথম পর্বে আপনারা নিশ্চয় জেনেছেন মেল ও তার প্রতিবেশীরা গভীর এই গর্তটি কেন অতিপ্রাকৃত বলে মনে করে। এবারের পর্বে থাকছে গর্ত সম্পর্কিত আরো রহস্যময় কিছু তথ্য-

মেলের সঙ্গে সঙ্গে আরও কিছু অদ্ভুত ঘটনা ঘটতে শুরু করে। একদিন সকালে মেল সে গর্তের কাছে আরও বেশকিছু রিচার্জ করার জন্য যান। তবে সে সেখানে দুইজন স্যুট পরা ব্যক্তিকে দেখতে পান। সেই দুইজন ব্যক্তি মেল ওয়াটারকে বলেন যে, তুমি এই গর্তের কাছে আর কোনো দিনও যাবে না।

কারণ এটা এখন থেকে সরকারি জমি। তখন মেল ওয়াটার বলেন যে, এটা আমার জমি। আমি এটা কিনেছি। কেন আমি এটার কাছে যেতে পারব না? তখন সে কালো কোট পরিহিত ব্যক্তি দুইজন বলে, কারণ এই গর্তের মধ্যে ছোট একটি প্লেন ক্রাশ করেছিল।

আর এটিকে ঘিরে রাখা হয়েছে। আমরা এটা ইন্সপেকশন করছি। তুমি তোমার বাড়ি এখান থেকে শিফট করে দূরে কোথাও গিয়ে তৈরি করে নেও। তবে কোনো প্রশ্ন করতে পারবে না। তখন মেল ওয়াটার বুঝতে পারলেন যে, এই ব্যক্তিরা কোনো প্লেন বা অন্য কোনো কিছুর জন্য আসেনি। এই গর্তের জন্য কেবল এখানে এসেছে।

আর এ গর্ত সম্পর্কে তারা রেডিও শোয়ের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন। সে দুইজন ব্যক্তি মেলকে বলেন, তুমি এখান থেকে যদি শিফট না হও তাহলে আমরা তোমার বাড়ির মধ্যে ড্রাগস দিয়ে পুলিশকে ডেকে এনে তোমাকে ফাঁসিয়ে দিয়ে গ্রেফতার করাবো।

তাছাড়া সেই দুই ব্যক্তি আরও বলেন, যে তোমাকে একটি সুযোগ দিবো। আমরা তোমাকে আড়াই লাখ ডলার দিব। যাতে করে তুমি অন্য কোথাও গিয়ে নতুন বাড়ি তৈরি করে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারো। সেই সময় মেল ওয়াটারের আর্থিক অবস্থা খুব একটা ভালো ছিল না।

একদিকে তিনি নিরুপায়। কেননা এটা গভমেন্টের হস্তক্ষেপ। আবার তারা তাকে বিপুল পরিমাণ অর্থ দেয়ার কথা বলেছে। যা টাকার অংকে ২১ কোটি টাকার মতো। তিনি ভাবলেন যে, তিনি যদি এই টাকা নিয়ে অন্য কোথাও গিয়ে বসবাস শুরু করেন খুব একটা সমস্যা হবে না।

তাই মেল সে টাকাগুলো নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় চলে যায়। আর সেখানে গিয়ে নতুন বাড়িঘর নির্মাণ করে স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করতে শুরু করলেন। কিছুদিন অস্ট্রেলিয়াতে বসবাস করার পরে মেল ওয়াটারের হোম সিকনেস হয়ে যায়। হোম সিকনেস কোনো রোগ নয়।

অনেকদিন নিজের গ্রাম বা নিজের বাড়ি থেকে দূরে থাকলে বাড়িতে ফেরার প্রবল ইচ্ছা বা বাড়ির প্রতি যে মায়া তৈরি হয়, তাকে হোম সিকনেস বলে। কিছুদিন পরে ২০০০ সালে মেল ওয়াটার তার পরিবারকে আবার আমেরিকাতে ফিরে আসেন।

মেল তার পরিবারের সদস্যদেরকে বলেন, এই গাড়িতে করে তোমরা এপার্টমেন্টে গিয়ে ওঠো। আমি শীঘ্রই আসছি। আসলে মেল ওয়াটার মায়ার টানে পুরনো বসতভিটার দিকে রওনা দেয়। মেল ওয়াটার বাসে করে সেই স্থানের যাত্রা শুরু করে। তবে হঠাৎ করেই মেল ওয়াটার অজ্ঞান হয়ে যায়।

যখন তার জ্ঞান ফিরে আসে তখন সে জানতে পারে যে তিনি ১২ দিন অজ্ঞান হয়েছিলেন। তাকে সরকার থেকে ভর্তি করা হয়েছে এই হাসপাতালে। তিনি আরও দেখতে পান যে, তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের দাগ, ক্ষত স্থানে ঘা হয়ে গিয়েছে।

ডাক্তাররা বলেন যে, তাকে সবকিছু জানাতে সরকার থেকে নিষেধ করা আছে। তাই তারা আর কিছু বলতে পারবে না। তারপরে মেল ওয়াটার হাসপাতাল থেকে বের হয়ে তার ভাইয়ের ছেলেকে ফোন করে সবকিছু বলে দেয়। তিনি আবার সেই গর্তের কাছে যেতে শুরু করেন। যেটা হাসপাতাল থেকে মাত্র ৫০০ মিটার দূরেই ছিল।

কিছু সময় পরে মেল ওয়াটার সেই বাড়িতে গিয়ে হাজির হয়। তিনি সেখানে গিয়ে দেখতে পান, সেখানে তার আগের বাড়ির কোনো অস্তিত্বই নেই। তিনি সেখানকার কর্মচারীদের কাছ থেকে জানতে পারেন যে, এই জায়গাটিকে সরকার থেকে সিল করা হয়েছে। এটা এখন সরকারি জমি।

এটা দেখে মেল ওয়াটারের মনের মধ্যে ক্রোধের সৃষ্টি হয়। তিনি তার বদলা নিতে তকতক হয়ে যান। মেল ওয়াটার সেই রেডিও শোয়ের হোস্টের সঙ্গে দেখা করেন। তারপর তিনি তাকে সব ঘটনা খুলে বললেন। পরবর্তীতে সেই হোস্ট ও মেল ওয়াটার বাসিন্দাদের কাছে যান সবকিছু জানার জন্য।

তারা সে সব বাসিন্দাদের কাছ থেকে জানতে পারলেন যে, এখানে কিছুদিন আগে এক মিলিটারি প্লেন উড়তে দেখা যায়। এখানে অনেক রকম যুদ্ধাস্ত্র দেখতে পাওয়া যায়। সেই সঙ্গে এখানে কনস্ট্রাকশনের কাজও করা হচ্ছিল খুব উচ্চ শব্দের সঙ্গে।

পরবর্তীতে এই সবকিছু নিয়ে একটি গল্প তৈরি করে কোস্ট টু কোস্ট রেডিও চ্যানেলে সেই শোয়ের এপিসড টু প্রচার করা হয়। তারপরে মেল এমন আরও একটি রহস্যপূর্ণ গর্ত খুঁজতে শুরু করেন। অনেক খোঁজাখুঁজির পর মেল ওয়াটার হঠাৎ করে পাশের গ্রামে এরকম আরো একটি গর্ত দেখতে পান। এরপর থেকে মেলের সঙ্গে ঘটতে থাকে অবিশ্বাস্য সব ঘটনা। সেসব জানতে দ্যা নিউজ মোমেন্ট এর সঙ্গেই থাকুন।


Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*